ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এস কে মনোয়ার নাহিদের এক্সেলেন্স ইন সাকসেস অ্যাওয়ার্ড অর্জন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 30, 2025 ইং
এস কে মনোয়ার নাহিদ গ্রহণ করছেন এক্সেলেন্স ইন সাকসেস অ্যাওয়ার্ড ছবির ক্যাপশন: এস কে মনোয়ার নাহিদ গ্রহণ করছেন এক্সেলেন্স ইন সাকসেস অ্যাওয়ার্ড
ad728
বিনোদন ডেস্ক:

একটি গৌরবময় অর্জন যুক্ত হয়েছে এস কে মনোয়ার নাহিদের নামের পাশে। এক্সেলেন্স ইন সাকসেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫”-এ তিনি ‘সেরা ব্রডকাস্ট গ্রাফিক্স ডিজাইনার (নিউজ ব্রডকাস্টিং)’ ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছেন।

এই জমকালো অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে ২০২৫ সন্ধ্যা ৭ টায়, রাজধানীর অভিজাত স্কাই সিটি ব্যাংকুয়েট হল, ঢাকা-তে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে স্বনামধন্য দুটি প্রতিষ্ঠান—গ্রীন লিফ এবং ওয়ার্ল্ড অব ইউনিটি। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শিরীন শীলা এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-র চেয়ারম্যান লায়ন মো. মুজিবুর রহমান-এর কাছ থেকে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

নিউজ ব্রডকাস্টে রিয়েল-টাইম গ্রাফিক্স, অগমেন্টেড রিয়ালিটি এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের সৃজনশীল প্রয়োগের মাধ্যমে দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে আরও জীবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন তিনি। বাংলাদেশের টেলিভিশন ব্রডকাস্ট শিল্পে দীর্ঘ ১৭ বছরের নিরলস পরিশ্রম, প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহার এবং সৃজনশীল নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে।
এস কে মনোয়ার নাহিদ বাংলাদেশের টেলিভিশন গ্রাফিক্স ও ব্রডকাস্ট প্রযুক্তির অগ্রদূতদের একজন। টেলিভিশনের পর্দায় মোহনীয় গ্রাফিক্স আর বাস্তবসম্মত সৃজনশীলতার পেছনে থাকা এক নিরব কারিগর তিনি। ২০০৭ সালে আরটিভি-তে জুনিয়র মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও দ্রুতই তিনি যমুনা টিভি, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি এবং চ্যানেল ২৪-এর মতো শীর্ষস্থানীয় চ্যানেলে সৃজনশীল নেতৃত্ব দেখিয়েছেন।

২০১৯ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থানীয় টিভি চ্যানেল ঢাকা বাংলা চ্যানেল (ডিবিসি)–তে পেশাদারদের ভিজআরটি প্রযুক্তির উপর উন্নত প্রশিক্ষণ দেন। বিদেশি প্রশিক্ষকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি নিজে প্রশিক্ষক হিসেবে এই কোর্স পরিচালনা করেন।
এছাড়া তিনি পাঠশালা – দক্ষিণ এশিয়া মিডিয়া ইনস্টিটিউট-এ একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য হিসেবে তরুণ মিডিয়া পেশাজীবীদের অনুপ্রাণিত করছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ দেখাচ্ছেন।
২০১৬ সালে নরওয়ের বিশ্ববিখ্যাত ভিজআরটি প্রতিষ্ঠান থেকে “প্রো ভিজ আর্টিস্ট ডিজাইনার” সার্টিফিকেশন অর্জন করে তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন গ্রাফিক্সকে বিশ্বমানের সঙ্গে সমন্বিত করেন। একই বছর নেদারল্যান্ডস-এ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্রডকাস্ট সম্মেলন (আইবিসি)-তে অংশগ্রহণ করে তিনি অ্যাডোবি এবং ভিজআরটি-এর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন—যা বাংলাদেশের মিডিয়া শিল্পের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত ছিল।

দেশীয় স্বীকৃতির অংশ হিসেবে এর আগে তিনি “শের-ই-বাংলা স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫”-এও ভূষিত হন, তাঁর টেলিভিশন ব্রডকাস্টে সৃজনশীল অবদান এবং পরিবেশ সচেতনতা প্রসারে বিশেষ ভূমিকার জন্য। এছাড়া ২০১৮ সালে ইনডেক্স মিডিয়া আয়োজিত স্টার পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড-এ মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগে বিশেষ সম্মাননা স্মারক লাভ করেন, যা তাঁর সৃজনশীলতার রূপান্তরকারী প্রভাবের প্রমাণ।

লেখক হিসেবেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। তাঁর লেখা "ক্রিয়েটিভস ইন টেলিভিশন ব্রডকাস্ট ইন্ডাস্ট্রি" বইটিতে তিনি মোশন ডিজাইন, নির্বাচন গ্রাফিক্স, অগমেন্টেড রিয়ালিটি এবং ভবিষ্যতের ব্রডকাস্ট প্রবণতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন।
এছাড়া পরিবেশ সচেতনতা প্রসারে লেখা তাঁর বই "গার্ডিয়ানস অব আর্থ: সিম্পল স্টেপস টু অ্যা সাস্টেইনেবল ফিউচার" দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা দেয়।

দেশের সীমানা পেরিয়ে তিনি রুদ্রএফএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিসেবে বাংলাদেশ, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র এবং দুবাই-এ সফলভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন, যেখানে তিনি বহু মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছেন।

আজও, এস কে মনোয়ার নাহিদ নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং অনুপ্রেরণার মাধ্যমে মিডিয়া ও সমাজের অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলেছেন। তিনি কেবল একজন ব্রডকাস্ট গ্রাফিক্স বিশেষজ্ঞ নন—তিনি এক পথপ্রদর্শক, ভবিষ্যৎ নির্মাতা এবং বাংলাদেশের গর্বিত প্রতিনিধি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Deshpost 24

কমেন্ট বক্স